সোনামনিরা, টেলিভিশন থেকে সাবধান!

প্রতিদিনই বাড়ছে টেলিভিশন দেখতে গিয়ে আহতের সংখ্যা। কোথায়, জানেন? যুক্তরাষ্ট্রে! দিনে একজন-দুজন নয়, প্রতি ৩০ মিনিটে আহত হয় অন্তত একজন সোনামনি।

সব দেশে তো আর খোঁজ নেয়া হয়না৷ হলে নিশ্চয়ই সব জায়গা থেকেই আওয়াজ উঠতো, ‘‘সোনামনিরা, সাবধান!”

টেলিভিশন দর্শকের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে, বাড়ছে দেখতে গিয়ে আহত হবার ঘটনাও৷ আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু৷ জার্নাল পেডিয়াট্রিকস ১৯৯০ থেকে ২০১১ – এই ২১ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এ সময়ে টিভি দেখতে গিয়ে আহত হওয়ায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৮৫ জন শিশুকে৷ ২১ বছর আগে চিত্রটা বেশ স্বাভাবিক ছিল৷ ১৯৯০ সালে টেলিভিশন গায়ে পড়ে আহত হয়েছিল ৫ হাজার ৪৪৫ জন, ২০১১ সালে সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৩০০! কেন ২১ বছর আগের তুলণায় বছরে দ্বিগুণেরও বেশি শিশু টেলিভিশন দেখার আনন্দ নিতে গিয়ে উল্টো কষ্টই বরণ করে নিচ্ছে? প্রধান কারণ দুটো৷ প্রথমত, ঘরে ঘরে টেলিভিশন দর্শকের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত হারে, দ্বিতীয়ত ফ্ল্যাট টেলিভিশন আসার পর থেকে আগের ভারি টেলিভিশনগুলোকে রাখা হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম নিরাপদ জায়গায়।

অন্তত একটা টেলিভিশন আছেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ ভাগ ঘরে৷ সবার কি আর একটা টেলিভিশনে চলে? দুটো বা তিনটা টেলিভিশন আছে এমন ঘরই বেশি৷ দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ৫৫ ভাগ ঘরে একটা- দুটো নয়, টিভি আছে কমপক্ষে তিনটা করে! এমন হলে সাড়ে ৩১ কোটি মানুষের দেশে বছরে গড়ে কমপক্ষে ১৭ হাজার শিশু শুধু টেলিভিশন দেখতে গিয়ে আহত হবে এতে কি খুব অবাক হওয়ার কিছু আছে?

আহতদের সবাই যে একেবারে কোলের শিশু তা কিন্তু নয়৷ ২১ বছরের হিসেবে দেখা গেছে, নিজে নিজে টেলিভিশনের কাছে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে পারে এমন শিশু থেকে শুরু করে ১৮ বছরের কিশোর-কিশোরীরা রয়েছে আহতদের মধ্যে৷ সামান্য আশ্বস্ত হবার মতো তথ্য আছে একটাই৷ দেখা গেছে যত আহত তত শিশুকে বড় সমস্যায় পড়তে হয়না৷ বেশিরভাগই হাসপাতাল ছাড়তে পারে প্রাথমিক চিকিৎসার পর৷ হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় শতকরা ২ দশমিক ৬ ভাগ শিশুকে৷ মৃত্যুর হার এখনো খুব শঙ্কাজনক নয়৷ গত ২১ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশন দেখতে গিয়ে মারা গেছে মোট ২১৫ জন শিশু।

Updated: May 29, 2015 — 1:08 pm
bangladeshi women's lifestyle © 2015-2016, ই-মেইলঃ bdnari.com@gmail.com Serverdokan TEAM