চুল পড়া রোধে জেনে নিন কিছু ভেষজ উপায়

* চুল মেয়েদের অহংকার। কিন্তু চুল যে শুধু মেয়েদের অহংকার তা নয়। ছেলেদের টাক পড়লেই বুঝা যায় চুলের মর্ম কতটা ছিল। চুলের যতœ নিয়মিত না করলে চুলের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। চুলের সুন্দর্য বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন চুলের গোড়ায় স্টিমিউলেশন, চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবারহ করা ও নিয়মিত চুল পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চুল পরিষ্কার রাখার জন্য সপ্তাহে অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন হারবাল শ্যাম্পুতে চুল ধোয়া উচিত।

স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন আমাদের কিছু চুল ঝরে যায়। এ নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। শুধু খেয়াল রাখতে হবে ঝরে পরা চুল আবার গজাচ্ছে কিনা। নতুন চুল না উঠলে বুঝতে হবে চুল ঠিকমত পুষ্টি পাচ্ছে না। পুষ্টির অভাবে ভবিষ্যতে টাক পড়ার সম্ভবনা থাকে। ঠিকমত রক্ত সঞ্চালন না হলে চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। আসুন এবার নিচের বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করি।

– শ্যাম্পু করার আগে মাখায় হাল্কা গরম তেল ম্যাসাজ করুন। খেয়াল রাখবেন চুলে যেন বেশি টান বা ঘষা না লাগে।
– গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় জড়িয়ে রাখুন দশ মিনিট। প্রতি সপ্তাহে চুলের জন্য হারবাল প্যাক- ডিম একটা, টক দই ১০০ গ্রাম, দুই চা চামচ আমন্ড পাইডার দিয়ে পেস্ট তৈরি করে চুলে লাগিয়ে রাখুন এক ঘন্টা। এতে চুল হবে ঝরঝরে ও মসৃণ।
– সব সময় চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু নির্বাচন করুন। শ্যাম্পু করার সময় খুব জোরে মাথা না ঘষে ধীরে ধীরে আঙুলের ডগা দিয়ে ঘষুন, নখ দিয়ে নয়। পরে ভাল করে মাথা ধুয়ে কন্ডিশনার লাগান। এছাড়া আধা মগ পানিতে দুই চামচ মধু, দুই কাপ চায়ের লিকার ও এক চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে চুলে ঢেলে দিন। এতে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
– গ্রীষ্মকালে চুলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। গরমে প্রচন্ড মাথা ঘামে। ফলে চুল সব সময় ভেজা থাকে। ধুলাবালি ঘামের সাথে মিশে খুব সহজেই ময়লা হয়ে যায়। ফলে শুরু হয় চুলের নানা সমস্যা চুল পড়া, খুশকি, বিভিন্ন ফাঙ্গার ইনফেকশন প্রভৃতি। গ্রীষ্মে একদিন অন্তত মাথা ধুয়ে অবশ্যই কন্ডিশনার লাগাবেন। সপ্তাহে একদিন শ্যাম্পু করার আগে চুলে তেল ম্যাসাজ করবেন।
– চুলের শুষ্কতা দূর করতে ভেষজ প্যাক হিসাবে একটি পাকা কলা, আধাখানা পেঁপে ও তিন চামচ মধু দিয়ে প্যাক বানিয়ে পুরো চুলে লাগান সপ্তাহে দুই দিন। চুলের ধরণ অনুযায়ী প্যাক লাগিয়ে ফিরিয়ে আনতে পারেন চুলের হারানো জৌলুস এবং প্রতিরোধ করতে পারেন আপনার চুল পড়া।
তাই সময় থাকতেই আপনার চুলের ধরণ অনুযায়ী যতœ নিন। চুলের হারবাল প্যাক তৈরির আগে প্রথমেই চুলের ধরণ সম্পর্কে জেনে নিন। চুল সাধারনত তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন স্বাভাবিক, শুষ্ক এবং তৈলাক্ত। চুলের ধরণ অনুযায়ী কয়েকটি হারবাল প্যাক দেয়া হলো।-

স্বাভাবিক চুলের প্যাক
ডিম দুই টি, মধু দুই চামচ, অলিভ অয়েল দুই চামচ, জবা ফুলের রস দুই চামচ, ভৃঙ্গরাজ দুই চামচ গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে হেয়ার প্যাক বানিয়ে পুরো চুলে ৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। অবশেষে ঠান্ডা চায়ের লিকার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

তৈলাক্ত চুলের প্যাক
নিমপাতা গুঁড়া দুই চামচ, মেথি গুঁড়া দুই চামচ, কেশুরপাতা গুঁড়া দুই চামচ, টক দই দুই চামচ, ডিমের সাদা অংশ দুইটা একত্রে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

শুষ্ক চুলের প্যাক
জলপাইয়ের ক্বাথ দুই চামচ, মেথি গুঁড়া দুই চামচ, ক্যাস্টার অয়েল চার চামচ, ভৃঙ্গরাজ রস এক চামচ, কেশুর পাতা এক চামচ, ডিম দুইটা একত্রে মিশিয়ে পেস্ট করে লাগিয়ে এক ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

খুশকির ক্ষেত্রে
খুশকি নিরাময়ের জন্য মেথিবাটা, পেঁয়াজের রস, নিমপাতাবাটা, লেবুর রস, টক দই এক সঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগালেও খুশকি কমে যায়। তবে ঝলমলে খুশকি মুক্ত চুলের জন্য আরো বাড়তি কিছু করা চাই। শুধু প্যাক তৈরি করে চুলে মাখলেই হবে না, খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আর এ জন্য প্রচুর পানি আর ফল খেতে হবে আপনাকে।

Updated: May 29, 2015 — 1:36 pm
bangladeshi women's lifestyle © 2015-2016, ই-মেইলঃ bdnari.com@gmail.com Serverdokan TEAM