জেনে নিন চিরতায় যেসব ভেষজ গুনাবলী রয়েছে

bitter-stick_Chiretta water

* চিরতা একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা বাংলাদেশ সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর জন্মে। জেসিএনেসি বর্গের অন্তর্গত এই গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম swertia chirayita (Roxb.ex Fleming). karst. । হিন্দীতে এর নাম “চিরায়াতা”।

 

ঔষধী গুণ :

ফুলন্ত অবস্থায় পুরো গাছ তুলে শুকিয়ে নিয়ে ওষুধের কাজে ব্যবহার করা হয়। অত্যাধিক তিক্ততা, জ্বর ও কৃমিনাশক শক্তি এবং পাচকতার গুণে চিরতা সারা ভারতে সুপ্রসিদ্ধ। ঔষধী গুণে চিরতা জেন্টিআনা কুরুর অনুরূপ। জ্বর, অতিসার এবং দুর্বলতায় চিরতা খুব উপকারী। ম্যালেরিয়তেও দেওয়া হয় কিন্তু চিরতার জ্বর কমানোর শক্তি পরীক্ষায় সম্প্রমাণিত নয়।

পুরোনো যুগে চিরতা :

বেদগ্রন্থে গুহাবাসীকে বলা হতো ‘কিরাত’। মনুর মতে, কিরাত মানে নিকৃষ্ট শ্রেণীর মানুষ। এরা ছিল সদাচারভ্রষ্ট। এরা গুহাতেই খেত এবং সেখানেই মলমূত্র ত্যাগ করত। এ ছাড়া তারা সর্বদা অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন থাকত এবং নানা রোগে আক্রান্ত হতো। তাদের সেসব রোগকে নিরাময় করত যে ভেষজ তার নামই কিরাততিক্তা। কিন্তু বৌদ্ধ শ্রমণরা এই কিরাত শব্দটিকে উচ্চারণ করত ‘চিরাত’ বলে। সেই থেকে কিরাততিক্তার নাম হয়েছে চিরাত এবং ক্রমবিবর্তনে চিরতা নাম সর্বত্র প্রসিদ্ধ।

প্রাচীন বিজ্ঞ বৈদ্যদের মতে, চিরতা মৃদু বিরেচক, ক্রিমিঘœ, জ্বরঘœ, অগ্নির উদ্দীপক, ক্ষুধাবর্ধক। হিন্দু চিকিৎসকরা বলেন, চিরতা বল্য, ক্রিমিনাশক, জ্বরঘœ। হেকিমরা বলেন, এটি স্নিগ্ধ, পিত্তজনিত জ্বর ও দাহ নিবারক। পশ্চিম ভারতীয়রা বলেন, এটি হাঁপানিতে ভালো ফলদায়ক।

আয়ুর্বেদীয় গ্রন্থাগাররা নানাভাবে চিরতার ব্যবহার সমর্থন করেছেন। চরক এটিকে লেখন, স্তন্যশোধন, তৃষ্ণা নিবারণ রক্তবমি ও উদরের বিভিন্ন রোগে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।  হারিত বলেন, গর্ভকালীন বমিতে চিরতা ভেজানো পানি উপযোগী।

মুষ্টিযোগ হিসেবে এটি চুলকানি, ক্রিমি, কুষ্ঠ, জ্বালা, গর্ভকালীন বমি, জ্বর-পরবর্তী দুর্বলতা, এ্যালার্জি, রক্তপিত্ত, স্তন্যশোধন, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি-কাশিসহ হাঁপানি, প্রমেহ কোষ্ঠবদ্ধ, অগ্নিমান্দ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। দেশীয় সালসায় চিরতার ক্বাথ দেয়া হয়। কবিরাজরা পুরনো জ্বরে যে সুদর্শন চুর্ণ ব্যবস্থা করেন, তা ওই চিরতা থেকে প্রস্তুত। অ্যালোপ্যাথিক মতে, রাসায়নিক উপায়ে চিরতার বীর্য বের করে বলাকারক ওষুধ প্রস্তুত করা হয়।

মোট কথা, চিরতা একটি পিত্তদোষ নিবারক জ্বরঘœ ওষুধ। পুরনো জীর্ণজ্বরে এটি বহুকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পিত্তাধিক্যযুক্ত সবিরাময় জ্বর, যকৃতের ক্রিয়াঘটিত গোলযোগ, অজীর্ণ, ক্রিমিজনিত উপসর্গগুলোর ক্ষেত্রে এর উপযোগিতা দেখা যায়। গ্রহণী রোগের মতো দুশ্চিকিৎস্য ব্যাধিকেও এই ভেষজের দ্বারা সাধ্যায়ত্ত করা যায়। অধিক মাত্রায় চিরতা খেলে গাত্রদাহ, বমনেচ্ছা, এমনকি বমি পর্যন্ত হতে পারে।

Updated: June 23, 2015 — 10:51 am
bangladeshi women's lifestyle © 2015-2016, ই-মেইলঃ bdnari.com@gmail.com Serverdokan TEAM