যৌবন আসে কেন এবং কীভাবে ?

tumblr_inline_ni2whjuH7Y1rbibv8

যৌবন ঢাক ঢোল পিটিয়ে না আসলেও যৌবনের আগমন অনায়াসেই টের পাওয়া যায় মানব শরীরে। আচমকা যেন শরীরের পরিবর্তন সাধিত হতে থাকে। পুরুষ কিংবা নারী হঠাৎ করেই যেন বড় হয়ে যায়। শরীর ও মনের ক্রমবর্ধমান পরির্বতন আস্তে আস্তে মানবিক ভাবেও তাকে বড় করে তোলে। পরবর্তীতে পৃথক পৃথকভাবে পুরুষ এবং নারীর যৌবনের বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌবনের বিকাশ :

পুরুষের ক্ষেত্রে যৌবনের বহিঃপ্রকাশ হয় এগারো থেকে তের বছর বয়সের মধ্যে। কিশোরের শরীরে এ বিবর্তনমূলক পরির্বতন ঘটে। শরীর বৃদ্ধি পায়; মাংস পেশী বহুল হয়। ছেলেদের দেহ অভ্যন্তরে থাইরয়েড এ্যাড্রিলেন এবং পিটুইটারী প্রভৃতি গ্রন্থিসমূহ সবল হয়। অন্ডকোষ সক্রীয় হয়ে নতুন জীব সৃষ্টিকারী শুক্রকীটের জন্ম দিতে শুরু করে।

নির্জীব পৃথিবী বসন্তের ছোঁয়া পেয়ে যেমন শ্যামল ও সজীব হয়ে ওঠে, ফলে-ফুলে দিগদিগন্তে যেমন হেসে ওঠে, নতুন পত্রে শুষ্ক বনবীথি যেমন রূপসজ্জায় সজ্জিত হয়। কোকিলের কুহুতানে যেমন আকাশে বাতাসে আনন্দের ধ্বনি ওঠে তেমনি যৌবনের অপরূপ সাজে নরের দেহে ভেসে ওঠে এক অপূর্ব শক্তি কমনীয়তা, মধুরতা ও পরিচ্ছন্নতা। ওষ্ঠ ও গণ্ড দিয়ে গজিয়ে ওঠে পৌরুষের ছাপ। শ্যামল আভরণ আর যৌনপ্রদেশেও দেখা যায় চিক্কণ কলো ঘন বন। মুখে ফোটে মধুর হাসি। হাতে থাকে সুরের বাঁশি। চোখে আসে প্রখর দৃষ্টি। মনে অসীম বল, বুকে দুর্বার সাহস আর চালচলনে বীরত্তব্যঞ্জক পদক্ষেপ। কি যেন সে চায়। কি যেন তাকে উন্মাদ করে তোলে এক অজানা সুরের দোলায়। বাষ্প যেমন পাত্রের ঢাকনি ভেদ করে অসীমের দিকে ছুটে যায়, তেমনি যৌবনে মন সব ভেঙ্গেচুরে একাকার করে এক অচেনা রাজ্যে পথ নিতে চায়। আর সে অচেনার রাজ্য হয় নারীর মন ও শরীর। পুরুষ চরিত্রে এই নারী কিভাবে স্থান লাভ করে, তার মন মেজাজে কি পরির্বতন ঘটায়, আকর্ষণ ও বিকর্ষণের ফলে তার দেহ-মনের কি ক্রিয়া সাধিত হয় তা পুরুষ মাত্রেই উপলব্ধি করতে পারে।

বস্তুত এভাবেই একটি ছেলে শিশু আস্তে আস্তে পরিণত বয়স্ক যুবকে পরিনত হয়। তারপর অবশ্য যৌবনের এই উন্মাদনা কমতে থাকে। একপর্যায়ে একেবারেই কমে যায়। তবে এর জন্য কোন অসুখ দায়ী নয়। এটা প্রকৃতির নিয়ম। এই নিয়ম অনুযায়ী একসময় যেমন পুরুষের শরীরে দুকুল ছাপিয়ে আসে যৌবন ঠিক তেমনি বয়সের ভারে সেই যৌবন হয়ে যায় পরিচ্ছন্ন সাদা চাদরের মতো। এখানেই একটি যুবক আর একজন বৃদ্ধের পাথক্য।

অবশ্য যুবক বয়সেও যে যৌবনের বার্দ্ধক্য আসে না তা কিন্তু নয়। এটার কারণ হলো রোগ। বিভিন্ন ধরনের রোগের কারণে পুরুশের শরীরে যৌবন দেরিতে আসতে পারে। আবার এসে দ্রুত চলেও যেতে পারে। অজ্ঞানতার কুসংস্কারাচ্ছন্ন আমাদের এইদেশে এই বিষয় আশংকাজনক। কারণ, ইদানিং ব্যাÍে ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন বলনাশক যৌন চিকিৎসা ক্লিনিক অকালে বৃদ্ধত্ব প্রাপ্ত যুবকদের পথভ্রষ্ট করে ফেলে। এমনকি জীবনের চরম ও পরম সর্বনাশ ঘটিয়ে ফেলে এদের মধ্যে অনেকেই এই ধরনের হাতুড়ে ক্লিনিক নামধারী দুই পয়সা কামানেওয়ালাদের  মাধ্যমে।

নারীর ক্ষেত্রে যৌবনের বিকাশ :

যৌবন আসার সময় পুরুষের চাইতে মেয়েদের ক্ষেত্রে তার অবস্থা ভিন্ন। কারণ, মেয়েদের ক্ষেত্রে যৌবনের বহিঃপ্রকাশে তার শরীরের পরির্বতনগুলো একটু একটু করে প্রকাশিত হয়। ক্রমশঃ হাফ প্যান্ট ছেড়ে পায়জামা বা শাড়ি, ব্লাউজ, কামিজ কিংবা বড় জামা এবং সেই সাথে ওড়নার ব্যবহার করা শুরু করে। এগুলো পরিধান তখনই প্রয়োজন হয় যখন মেয়েদের শরীরে যৌবনের ফুল ফুটতে থাকে।

যৌবনারম্ভে শারীরবৃত্তের পরির্বতনগুলো ঘটে একটা নির্দিষ্ট সময় জুড়ে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে। মেয়েদের শরীরের এই পরির্বতনগুলোই চলতি কথায় ‘যৌন আসা’। যা নির্ভর করে হাইপোথ্যালামাস পিটুইটারি-এ্যাড্রেনাল-ডিম্বাশয়ের পরস্পরর্ভির হরমোন নিঃসরণের ওপর।

বিষয়টা আরেকটু পরিষ্কার করে বলতে গেলে এরকম দাঁড়ায়। বাচ্চা মেয়েদের মাথার খুলির ভেতরকার পিটুইটারি গন্থি থেকে হরমোনগুলো নিয়মিতভাবে বের হতে পারে না। বয়ঃসদ্ধিক্ষণ বা যৌবনের শুরুতে মগজের হাইপোথ্যালাস থেকে নিঃসরক-রস বা জবষবধংরহম ঋধপঃড়ৎ- গুলো বের হতে শুরু করে। এগুলোর প্রভাবে পিটুইটারি থেকে নানা হরমোনের নিয়মিত নিঃসরণ শুরু হয়। মেয়েদের একটা নির্দিষ্ট বয়সে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রেরই অংশ। এটাও পরিণত হয়। নিঃসরক রসের নিয়মিত নিঃসরণ যৌবনারম্ভে শরীরের ভেতর আর বাইরে যৌবনের লক্ষণগুলো দেখা দেবার কারণ।

পিটুইটারি হরমোনের প্রভাবে ডিম্বাশয় থেকে এ সময় শুরু হয় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন- এই দুই যৌন হরমোন এর নিঃসরণ। এদের প্রভাবে মেয়েদের শরীরে নানা বাহ্যিক যৌন লক্ষণ দেখা দেয়। শরীরের ভেতরের ও বাহিরের যৌন অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর(জরায়ু, ডিম্বাশয়, স্তন) বৃদ্ধি, পরিণতি ও সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা তৈরি হয়। এ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে বের হওয়া হরমোনের প্রভাবে দেখা দেয় কিছু বাহ্যিক যৌন লক্ষণ আর সাময়িক ওজন বৃদ্ধি বা স্থুলত্ব। মেয়েদের যৌবন শুরুর বছরগুলোতে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটতে থাকে শরীরের মাংসপেশী, হাড় ও অন্যান্য কোষকলার। এর জন্য দায়ী পিটুইটারি নিসৃত গ্রোথ হরমোন।

পুরুষের ন্যায় নারীর যৌবনেও আসে এক উন্মত্ততা। নারীদের শিরায় উপশিরায় প্রবাহিত হয় বিদ্যুৎগতি। নাচিয়ে তোলে তার সুপ্ত মনকে। দেহের অণু-পরমাণুতে জাগিয়ে তোলে এক অভূতপূর্ব শিহরণ। যায় জন্য সে ব্যাকুল হয়ে ওঠে কোন এক পুরুষকে পাবার আশায়। চোখে মুখে ফুটে ওঠে এক আকর্ষণীয় রূপ। লজ্জা, জড়তা ও মধুরতাকে করে তোলে সুন্দর। ঠোঁটে তার স্মিত হাসি, নয়নে এক পাগলরূপী ইশারা।

রক্তিম পদ্ম যেমন সরোবরে এক অপূর্ব শ্যী বৃদ্ধি করে, তেমনি পদ্মকলিসম নারীর স্তন তার বক্ষে এক পাগল করা সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। নারী গণ্ডদেশ, উরু, বাহু বিস্তৃত নিতম্ব, ঘন কৃষ্ণ কেশ, মুখের উজ্জ্বল লাবণ্য, দেহের নিভাঁজ মসৃণতা তাকে অপরূপ করে সাজিয়ে তোলে।

কিশোরদের দেহে যেমন এক বিবর্তনমূলক পরির্বতন দেখা যায়, তেমনি কিশোরীদের দেহেও এক জোয়ার এসে যৌবনে টেনে নেয়। যৌব-গ্রন্থিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। যৌনপ্রদেশ ও বগলে রেশমী ঘন কৃষ্ণ লোমরাশি দেখা দেয়। একদিন হঠাৎ ঋতুস্রাব তাকে জানিয়ে দেয়, তুমি আর কিশোরী নও- এখন থেকে তুমি যুবতী। মা হওয়ার সত্যিকারের ক্ষমতা তুমি অর্জন করেছ। এখন আর পুতুল নিয়ে খেলা করার বয়স তোমার নেই। তুমি বড় হয়ে গিয়েছ। সেই সাথে তোমার সময় এসেছে খারাপ পুরুষের নজর এবং তাদের কুৎসিত থাবা থেকে নিজেকে রক্ষা করার। এই কাজে তোমার পরিবার তোমাকে সচেতন করবে কিনা জানি না। নিজেকে নিয়ে কখনও হিনমন্যতায় ভুগবে না। কখনও নিজেকে মেলে ধরবে না পুরুষদের সামনে। আর সেই সাথে কোন ধরনের রোগের উৎস দেখা মাত্র সেটা নিয়ে বাড়ির বড় মেয়ে (বিশেষ করে মা) দের সাথে আলোচনা করবে।

Updated: July 15, 2015 — 2:29 pm
bangladeshi women's lifestyle © 2015-2016, ই-মেইলঃ bdnari.com@gmail.com Serverdokan TEAM