সঙ্গমকালীন নারীর অসহ্য ব্যথা হওয়ার কারন এবং তাদের করনীয়

sad-girl-images-free

যৌনমিলনে যেমন মন মাতানো সুখ আছে তেমনি কারও বেলায় তা আবার কষ্টের কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে। যেমন নারীদের কথাই ধরা যাক। কিছু কিছু নারী আছে যারা যৌনমিলনকালে ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠেন। তখন দেহমিলন তাদের কাছে হয়ে ওঠে যাতনার। যৌনমিলনের সময় পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করানোর পর কিছু কিছু নারী তাদের যৌনাঙ্গে মিলনকালীন মাঝারি থেকে প্রচন্ড মাত্রার ব্যথা অনুভব করে থাকে। সেক্স করতে সক্ষম এমন বয়সের যে কোনো নারীর বেলায় এ ঘটনাটি বা সমস্যাটি বারবার চক্রের মতো হতে পারে। নারীর এ সমস্যাটি শারীরিক বা মানসিক কারণে বা উভয় কারণে হতে পারে। সঙ্গমকালীন নারীর যৌনাঙ্গে ব্যথার ঝুঁকি যাদের বেশি তারা হলেন-

*    সাম্প্রতিক শারীরিক সমস্যাগ্রস্ত
*    মানসিক অসুস্থ
*   মনোশারীরিক চাপ
*    মদ্যপান
*   দীর্ঘমেয়াদি অবসন্নতা বা ক্লান্তি ইত্যাদি। এ সমস্যায় দেহের যে অংশ জড়িত তা হলে-

–    যোনির মাংসপেশি
–    সতীচ্ছ বা হাইমেন
–    জরায়ু  বা ইউটেরাস
–    মস্তিক

মিলনকালীন যৌনাঙ্গে ব্যাথার মানসিক কারণ :

*    যৌনপুলকের ঘাটতি
*   যৌনসুখ ও শিহরণের অভাব
*  যৌনতা বা সেক্স সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণার অভাব
*  যৌনাঙ্গে আঘাত পাওয়ার প্রতি ভয়
*  গর্ভাবস্থায় যৌনমিলন
*  গর্ভবতী হওয়ার ভয়
*   শৈশবে যৌন অত্যাচারমূলক অভিজ্ঞতা বা সেক্সুয়াল অ্যাবিউস
*   সাইকোলজিক্যাল বা মেন্টালি আঘাত
*  সেক্স সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা
*   যোনি পিচ্ছিল না হওয়া বা যোনির শুষ্কতা অর্থাৎ মানসিকভাবে যৌনক্রিয়ায় পর্যাপ্ত উত্তেজনার অভাব বা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারা।
*  সঙ্গী বা সাথীর মাঝে কোনো ব্যাপারে বনিবনা বা ভূল বোঝাবুঝি অথবা প্রেম-ভালোবাসার অভাবেও এ সমস্যা উদ্ভব হতে পাারে

মিলকালীন যৌনাঙ্গে ব্যথার দৈহিক কারণ :

*    জরায়ুতে টিউমার যেমন-ফাইব্রয়েড
*    নারীর ইউরেথ্রাতে সংক্রমণ
*    যোনির শুষ্কতা
*    যোনিতে ক্ষত/ইনফেকশন যেমন-হারপিস
*    যোনির সারভিক্স ডিম্বনালি বা ফেলোপিয়ান টিউব অথবা গর্ভাশয়ে ইনফেকশন
*    শ্রোণিচক্রের বা পেলভিসের প্রদাহজনিত ব্যাধি
*     অপারেশন পরবর্তী কোনো জটিলতায় যোনি দেয়ালে চাপ অনুভূতির কারণে।
*    এন্ডোমেট্রিওসিস
*    সন্তার প্রসব পরর্বতী যোনির অপারেশনের জটিলতা
*    হঠাৎ করে সতীচ্ছদ ছিন্ন হওয়া
*    নারীর যোনির পর্দা বা সতীচ্ছদ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মোটা হওয়া
*   জন্মনিরোধক ফোম, কনডম বা ডায়াফ্রাম অথবা জেলির কারণে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া

মিলনকালীন নারীর যৌনাঙ্গে ব্যথার লক্ষন ও উপসর্গ:

*  পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করাতে গেলে যোনিতে ব্যথা সৃষ্টি হয়
*   সঙ্গমকালীন যোনি অঞ্চলে দারুণ ব্যথা পাওয়া
*   যৌনতার বা সেক্সের বিভিন্ন ভঙ্গিতেও যোনি এরিয়ার ব্যথা-বেদনা হতে থাকা
*   যৌনমিলন বা সেক্সে করার সময় সামান্য নড়াচড়াতেই ব্যথা তীব্র হয়ে যাওয়া
*   মিলনের সময় নারী যোনিতে অস্বস্থি বোধ করতে থাকা
*   যৌনমিলন নারীর কাছে ঘৃণা বা অতৃপ্তি অথবা যাতনার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়
*    নারী বিরক্ত হয়ে ওঠে
*   নারী স্বামীর সান্নিধ্য থেকে পালিয়ে বেড়ায় বা দূরে দূরে থাকে।

জটিলতা :

–    এ সমস্যায় নারীর আত্মসম্মানবোধ হ্রাস পায়
–    যৌন অনুভূতিবোধ বিকৃত হয়ে যায়
–    ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়
–    মানসিক সমস্যা দেখা দেয়  কোনো কোনো ক্ষেত্রে)

এ রোগে করণীয় :

অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে রোগীর পুরো মেডিকেল ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ইনভেস্টিগেশন করাতে হবে। উপসর্গগুলোর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। প্যাপ স্মিয়ারসহ যোনির যে কোনো অ্যাবনরমাল ক্ষরণের কালচার টেষ্ট করাতে হবে। আসল রোগ, আঘাত বা ইনজুরি অথবা যোনির গঠনগত ক্রটি থাকলে সেগুলোর উপযুক্ত ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করাতে হবে।

মানসিক কারন থাকলে Sen Education ও মনোবিশেষজ্ঞের কাউন্সিলিং বা সাইকোথেরাপির দরকার হবে। সেক্স বা যৌনতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান বা ধারণা অর্জন করতে হবে যৌনতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পরিহার করে ইতিবাচক ধারণা ও মনোভাব রোগীকে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

নারীর যৌনাঙ্গে ব্যথার চিকিৎসা :

*    যোনির শুষ্কতা বেশি হলে পিচ্ছিলকারক কোনো লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
*    ইনফেকশন থাকলে তার চিকিৎসা করাতে হবে।
*    উষ্ণ গরম পানিতে প্রতিদিন ৩-৪ বার যোনি ধুতে হবে।
*    যৌনাঙ্গ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
*    দুশ্চিন্তা বা টেনশনকে যথা সম্ভব এড়িয়ে চলার অভ্যাস গড়তে হবে। প্রয়োজনে সাইকোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

Updated: December 6, 2015 — 2:43 pm
bangladeshi women's lifestyle © 2015-2016, ই-মেইলঃ bdnari.com@gmail.com Serverdokan TEAM