নারীর সুস্বাস্থ্যের জন্য যে ভিটামিনগুলো অত্যাবশ্যকীয়!

bdnari00030021নারীদের সুস্বাস্থ্যের জন্য তাদের খাদ্যের সাথে ভিটামিনের সমন্নয় করা অত্যাবশ্যকীয়। কারণ ভিটামিন নারীদের বিভিন্ন প্রকার রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ভিটামিন এক ধরণের জৈব যৌগ যা দেহের বিভিন্ন অংশের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনায় সহযোগিতা করে। প্রতিটা ভিটামিন নির্দিষ্ট কাজ করে থাকে। ভিটামিনের ঘাটতি হলে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আপনি যা খাচ্ছেন তা থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাচ্ছেন কিনা তা জানা অত্যন্ত অত্যাবশ্যকীয়। প্রয়োজন দেখা দিলে ও ডাক্তারের পরামর্শে সম্পূরক ভিটামিন গ্রহণ করতে হয়। মহিলাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিন গুলো হচ্ছে :

* ভিটামিন এ : সব বয়সের নারীদের জন্যই ভিটামিন এ প্রয়োজনীয়। শরীরের হাড়, দাঁত, নরম টিস্যু, ত্বক ও মিউকাস পর্দার গঠনে সাহায্য করে এবং এদের শক্তি প্রদান করে ভিটামিন এ। এছাড়াও ভিটামিন এ দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার ঝুঁকি কমায়, দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়, বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার গুলো হচ্ছে- গাজর, টমাটো, ফুটি, তরমুজ, পেয়ারা, ব্রোকলি, পাতাকপি, পেঁপে, পীচ ফল, লাল মরিচ, শাক, ডিম, যকৃত এবং দুধ।

* ভিটামিন বি ২ : রিবোফ্লেভিন হিসেবে পরিচিত ভিটামিন বি ২, যা ভালো স্বাস্থ্য, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিপাকের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এটি এনার্জির উন্নতি ঘটায়, ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। এছাড়াও ভিটামিন বি২ স্নায়ুবিক উত্তেজনা কমায় এবং অবশতা, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমায়। ভিটামিন বি২ এর ঘাটতি হলে বিপাক ও ইমিউন সিস্টেম প্রভাবিত হয়, জিহবা ও ঠোঁট ফ্যাকাসে দেখায়, গলায় ঘা, মুখের আলসার, ঠোঁট ফাটা, চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়া, বলিরেখা পরা এবং ত্বকের চুলকানির মত সমস্যা গুলি হতে পারে। ভিটামিন বি ২ সমৃদ্ধ খাবার গুলো হচ্ছে- মাংস, পনির, দুধ, দই, সবজি, ইস্ট, ডিম, আস্ত শস্যদানা, সয়াবিন, কাঠবাদাম, বাদাম এবং মাশরুম।

* ভিটামিন বি৬ : ভিটামিন বি৬ পাইরিডক্সিন নামে পরিচিত যা স্বাস্থ্যকর ইমিউন সিস্টেমের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এই ভিটামিন মস্তিস্কের রাসায়নিক ও দেহের হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে। যার ফলে ডিপ্রেশন, হৃদরোগ এবং স্মৃতি হারানোর সমস্যা কমতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্তের সুগার লেভেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও গর্ভবতী মহিলাদের প্রাতঃকালীন অসুস্থতা থেকে মুক্তি দিতে পাতে ভিটামিন বি৬। ভিটামিন বি৬ এর ঘাটতি হলে অ্যানেমিয়া হতে পারে। ভিটামিন বি৬ এর উৎস হিসেবে পরিচিত খাবার গুলো হল- কলা, অ্যাভোকাডো, মাংস, মটরশুঁটি, মাছ, ওটমিল, বাদাম, বীজ এবং শুকনো ফল।

* ভিটামিন বি ৭ : ভিটামিন বি ৭ বায়োটিন নামে পরিচিত যা ফ্যাটি এসিডের সংশ্লেষণ ও কোষের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। এই ভিটামিন ত্বক, চুল ও ঘর্মগ্রন্থিকে স্বাস্থ্যবান রাখে। আসলে এই ভিটামিন ভঙ্গুর নখ নিরাময়ে ও চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও ভিটামিন বি৭ অস্থি ও অস্থিমজ্জার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে। ভিটামিন বি৭ এর ঘাটতি যদিও খুব বিরল তবে যদি হয় তাহলে চুলের ভঙ্গুরতা, হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতায় অস্বাভাবিকতা, র‌্যাশ, ক্লান্তি, রক্তস্বল্পতা এবং মৃদু বিষণ্ণতা হয়। ভিটামিন বি৭ এর খাদ্যের উৎসগুলো হল- মাছ, মিষ্টি আলু, আমন্ড, গাজর, কলা, হলুদ ফল, সবুজ শাকসবজি, মসূর ডাল, বাদামী চাল, ডিমের কুসুম, সয়াবিন, ওটমিল, দুধ, পনির, বাদাম ও দই ইত্যাদি।

* ভিটামিন বি ৯ : ভিটামিন বি ৯ ফলিক এসিড নামে পরিচিত যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, আলঝাইমার্স, ডিপ্রেশন, ক্যান্সার ও মেমোরি লস প্রতিরোধ করে। এছাড়াও ভিটামিন বি৯ মস্তিস্কের স্বাস্থ্য ও কোষীয় কার্যাবলীর উন্নতি সাধন করে, উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং গর্ভাবস্থায় ভ্রুনের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মহিলাদের ভিটামিন বি ৯ এর ঘাটতির ফলে শিশুর নিউরাল টিউবের অপূর্ণতার সমস্যা যেমন- স্পিনা বিফিডা হতে পারে। ভিটামিন বি৯ এ সমৃদ্ধ খাবার গুলো হচ্ছে- সবুজ শাকসবজি, কমলার জুস, শতমূলী, বাঙ্গী, শস্য, শিম জাতীয় সবজি, মটরশুঁটি, ইস্ট এবং ডিম।

* ভিটামিন বি ১২ : ভিটামিন বি ১২ একটি অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন যা প্রত্যেক মহিলার খাওয়া উচিৎ। বিপাক, কোষ বিভাজন এবং প্রোটিন সংশ্লেষণের জন্য এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিন হৃদরোগ, রক্তস্বল্পতা ও স্মৃতি ভ্রষ্ট হওয়া প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়াও এই ভিটামিন বিষণ্ণতা নিরাময়ে, স্নায়ুতন্ত্রকে ও মস্তিস্কের কার্যাবলীকে ঠিক রাখতেও সাহায্য করে। ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি হলে যন্ত্রণা, বিষণ্ণতা ও দ্বিধার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও এর ঘাটতিতে জিহবা ও মুখে প্রদাহ হতে পারে। ভিটামিন বি১২ এর উৎস হচ্ছে- পনির, ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, এবং দই ইত্যাদি।

Updated: April 2, 2016 — 8:47 am
bangladeshi women's lifestyle © 2015-2016, ই-মেইলঃ bdnari.com@gmail.com Serverdokan TEAM