প্রেগনেন্সির সময় যেভাবে প্ল্যানিং করবেন ডায়েট-ড্রেস-সেক্স!

bdnari3809298কখনও আম্মা৷ কখনও মাম্মি, আবার কখনও মা। ধর্ম-জাত-পাত যাই হোক না কেন, তাঁর পরিচয় একটাই। আর সে হল আমাদের প্রথম দেখা মা। মায়ের হাসি, মায়ের আনন্দ, মায়ের কষ্ট, মায়ের খিদে,মায়ের বিশ্রাম, সব ওৎপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে যখন ভাবী সন্তান মায়ের গর্ভে পরম যতেœ থাকে। মা আর সন্তানের এই সম্পর্ক, ঈশ্বরের দেওয়া যৌথ উপহার। যা মা ও বাবার কোলকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়। এই উপহারকে সযতেœ প্রতিপালনের জন্য চাই মায়ের যতœ। জেনে নিই প্রেগন্যান্সির সময় মায়ের ডায়েট ড্রেস ও সেক্স প্ল্যানিং কেমন হওয়া উচিৎ ।

* ডায়েট :-

ব্যালেন্সড ডায়েট প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। এই সময় শরীরে ক্যালসিয়াম ও আয়রন প্রয়োজন। এজন্য সবুজ শাক-সবজি, লাল ছোলা, কাঁচকলা, পালংশাক, শুকনো ফল, ছোট মাছ, মেটে যেন অবশ্যই খাদ্য তালিকায় থাকে৷ সেটা খেয়াল রাখতে হবে। লোহার কড়াইয়ে রান্না করুন। ক্যালসিয়ামের জন্য দুগ্ধজাত সামগ্রী যেমন দুধ, দই, ছানা,পনির খেতে পারেন। ফ্যাটি ফুড এড়িয়ে চলতে হবে। রান্নার সময় তেল ও ঘিয়ের পরিমাণ কম রাখুন। ফ্যাটি ফুড রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়ে ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকেরা ফলিক অ্যাসিড নামক ভিটামিন প্রেগন্যান্সির আগে থেকে খেতে বলেন। প্রেগন্যান্সির ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এই ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট খেতে হতে পারে। সবুজ শাকসবজি ও লেবুজাতীয় ফলেও ফলিক অ্যাসিড থাকে। চা, কফি, সফট ড্রিংকস এবং চকোলেট প্রতিটির মধ্যেই ক্যাফিন রয়েছে। ক্যাফিনযুক্ত পানীয় খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দিনে দুই কাপের বেশি চা বা কফি না খাওয়াই ভাল । এই সময় কনস্টিপেশনের সমস্যা দেখা যায়। ফাইবার এই সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে। ডায়েটে তাই ফাইবার-জাতীয় খাবার যেমন শাকসবজি, খোসাসুদ্ধ ফল অবশ্যই রাখতে হবে। সেই সঙ্গে বেশি পরিমাণে জল খেতে হবে। খালি পেটে থাকবেন না। যতবার ইচ্ছে, ততবারই খান। একবারে বেশি না খেয়ে বারবার অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়া ভাল। ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ প্রচুর খাবার খেতে হবে। কারণ, এই সময় শরীরে অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের দরকার পড়ে।

কনসিভ করার পর শুরুর দিকে মর্নিং সিকনেসের সমস্যা থাকে। এটা কাটাতে সকালে বিছানা ছাড়ার আগেই দু-একটা বিস্কুট বা সামান্য মুড়ি চিবিয়ে একটু জল খেয়ে নেওয়া ভাল। যা যা খেতে ভাল লাগে, সেগুলোই পরিমাণমতো এবং বিরতি দিয়ে দিয়ে খাওয়া উচিত। অবশ্য ইচ্ছে হল আর দেদারসে ফাস্ট ফুড খেয়ে গেলেন, সেটা মোটেই সুবিধের বিষয় হবে না৷ খেতে হবে একটু রয়ে-সয়ে। বমি, কনস্টিপেশন , বুক-গলায় জ্বালাপোড়া বা অরুচির মতো সমস্যাগুলোর সঙ্গে পেরে ওঠার জন্য ওষুধ নয়, হালকা আর সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করাই ভাল । মাথায় রাখতে হবে খাবারটা শুধু নিজের জন্য নয়, শরীরের অভ্যন্তরের ছোট্ট শিশুটির জন্যও। ওর কী দরকার, সেটা তো মানতেই হবে। প্রোটিন-ভিটামিন-ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তার ক্যালকুলেশনটা তাই সব সময়ই মেনটেইন করতে হবে। আর বাড়তি খাবার তো খেতে হবেই। দিনে কী কী খাচ্ছেন, তা একটি ডায়েরিতে লিখে রাখুন এবং এটি নিয়মিত মেনটেইন করুন।

ফলের রস বা স্যুপের মতো আইটেমগুলো তো সব সময়ই হিট, আবার শরীরের উপকারের জন্যও ফিট। রুচিমতো বুঝে-শুনে এই আইটেমগুলো নিয়মিত খাওয়াটা বেশ ভালই হতে পারে। প্রচুর জল পান করতে হবে। জাঙ্ক ফুডকে না বলুন। ভাজা-পোড়া খাবার  ব্লাড  প্রেসার বাড়ায়৷ যা মা-শিশু উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক। তাই, বাইরে খাওয়া একেবারেই কমিয়ে দিন। বিশেষ করে পান, জর্দা, চুন-জাতীয় নেশা থেকে দূরে থাকুন। এসব দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি করে।

* ড্রেস :-

যতটা সম্ভব হালকা-পাতলা সুতির পোশাক পরা উচিত। নখ কেটে ফাইল ঘষে নমনীয় রাখতে হবে, যাতে করে ত্বকে সামান্য আঁচড়,আঘাত না লাগে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়মমতো স্নান এগুলো তো করতেই হবে। তবে বেশি তেল, সাবান বা কসমেটিকস ব্যবহার না করাই ভাল। আর পার্লার গেলে হেভি কেমিক্যাল দেওয়া বিউটি ট্রিটমেন্ট করাবেন না। আর এ সময় চুল কালার বা ডাই করা বন্ধ রাখুন।

* সেক্স প্ল্যানিং :-

র্ভাবস্থায় সেক্স করা  উচিৎ না উচিৎ নয় ? এই প্রশ্ন নিয়ে অনেকই অনেক রকম কনফিউশনের মধ্যে থাকেন। প্রেগনেন্সির প্রথম ট্রাইমেস্টারে সেক্স না করাই ভাল। এই সময় যেহেতু  ফেটাল অরগ্যান্সের ডেভলপমেন্ট হয় তাই জোরে ধাক্কা অ্যাভয়েড করা উচিৎ। এর থেকে মিসক্যারেজও হতে পারে। প্রথম ট্রাইমেস্টারের মতই প্রেগনেন্সির শেষ মাসেও সেক্স না করাই ভাল। আনপ্রোটকেটড সেক্সের থেকে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এই সময় । প্রি ম্যাচিওর লেবারের রিস্ক বেড়ে যায়। প্রেগনেন্সির সময় মিলিত হলেও বাচ্চার কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কারণ, আম্লিওটিক ফ্লুয়িডের মধ্যে বাচ্চা থাকে । কিন্তু, জোর ধাক্কা বা বেশি নড়া-চড়া হলে মায়ের সমস্যা হতে পারে । এই সময় মহিলারা লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। কারণ, ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস এইসময় বেড়ে যায় । আবার অনেকের হরমোনের চেঞ্জের জন্য ইচিংও হতে পারে।  প্রেগন্যান্সির প্রথম ও শেষ সময়টুকু বাদ দিয়ে, মাঝের মাসগুলিতে সাবধানতা অবলম্বন করে যদি সহবাস করা যায়, তাতে কোন অসুবিধে হয় না ।  কিন্তু, পেটে যেন চাপ না পরে। আর সেক্স করার সময় সামান্যতম অসুবিধা হলে সঙ্গে সঙ্গে  তা বন্ধ করুন৷

[ বিঃ দ্রঃ প্রতিদিন মজার মজার রান্নাকরার অসাধারন সব রেসিপি এবং রুপ লাবণ্য টিপস আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিন!

আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিতে এইখানে ক্লিক করুন

Updated: August 25, 2016 — 2:38 pm
bangladeshi women's lifestyle © 2015-2016, ই-মেইলঃ bdnari.com@gmail.com Serverdokan TEAM